কে হচ্ছেন বেফাক প্রধান?

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২০ ০৯:১৩; আপডেট: ৩ অক্টোবর ২০২০ ০৯:১৮

ফাইল ছবি

দেশের কাওমী আকিদায় পরিচালিত বেসরকারী মাদরাসা সমূহের নিয়ন্ত্রক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)। আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে এই শিক্ষা বোর্ডে নেতৃত্বের শূণ্যতা তৈরী হয়েছে।

বেফাকের নেতৃত্বে নতুন কাকে নিয়ে আসা হবে সে বিষয় ঠিক করতে শনিবার (০৩ অক্টোবর) কওমি আলেমরা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

নীতি নির্ধারনী মজলিসে আমেলার এই বৈঠকটি যাত্রাবাড়ীর কাজলায় অবস্থিত বেফাকের কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে আসবে নতুন সিদ্ধান্ত।

সরকারী ভাবে স্বীকৃত কওমি আলেমদের সর্বোচ্চ সংস্থা ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। আর সংস্থাটির গঠনতন্ত্র অনুসারে বেফাকের সভাপতিই হবেন আল-হাইয়াতুল উলইয়ার সভাপতি।

মজলিসে আমেলার বৈঠকে শিক্ষা বোর্ড ও সংস্থার নেতৃত্ব একসাথে ঠিক করা হবে। বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি হবেন আল হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান। সে হিসেবে বেফাকের শূন্য পদগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে খালি হওয়া আল হাইয়াতুল উলইয়ার পদও পূর্ণ করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে আপাতত পূর্ন কোন নির্বাচন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেফাকের প্রভাবশালী সহ সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। তিনি বলেন, শনিবার কোনো নির্বাচন হবে না বরং শীর্ষ দায়িত্বশীলদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে আল্লামা আহমদ শফীর ইন্তেকালে যে শূন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ করা হবে।

প্রয়াত নেতা মুফতি শফীর মত একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী ব্যক্তিকে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বেসরকারী এই শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুসারে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কেউ বেফাকের এই শীর্ষপদগুলোতে আসতে পারবে না।

বেফাক সূত্রে জানা গেছে, যদি বেফাকের গঠনতন্ত্রকে পূর্নরূপে অনুসরণ করা হয় তাহলে যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সভাপতি হওয়ার দৌড়ে আছেন তাদের সেই সুযোগ থাকবে না।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে আসীন হতে আগ্রহী যারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত তারা রাজনৈতিক পদ-পদবি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।

বেফাকের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কেউই নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য নাম মিডিয়ার সামনে আনছে না।

তবে এই পদে বসার দৌড়ে এগিয়ে তিন–চারজন। ঘুরে ফিরে তাদের কথা আসছে।

তবে যে দুজনের নাম সবচেয়ে বেশী এসেছে তারা হলেন বেফাকের চেয়ারম্যান পদে ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এবং দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

বেফাক সভাপতির পদে নূর হোসাইন কাসেমীর বাঁধা রয়েছে। কারণ তিনি সরাসরি রাজনৈতিক দল ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত আছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এখনই সভাপতি হতে পারবেননা। এ জন্য তাকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব পদ ছাড়তে হবে।

আলোচনায় আসছে শিক্ষা বোর্ডটির বর্তমান সহ-সভাপতি ময়মনসিংহের মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী ও ফেনী ওলামাবাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম আদীবের নামও।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান। এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহমুদুল হাসান বিতর্কমুক্ত, গ্রহণযোগ্যতা ও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক না থাকায় বেশী এগিয়ে আছেন।

বেফাকের সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের চৌধুরি বলেন, অতীতে মজলিসে আমেলার বৈঠকে কণ্ঠভোটেই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। সে হিসেবে অধিকাংশের মতের ভিত্তিতেই এটি নির্ধারিত হবে। তবে কাল যদি কোনো সিদ্ধান্তে না আসা যায়, তাহলে উপস্থিত সবাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

নির্বাচনে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার কোন নিয়ম নেই বলে ও জানান তিনি। তবে বিভিন্ন আলোচনায় যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মাহমুদুল হাসান, বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ও ময়মনসিংহের মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জীর কথা শোনা যাচ্ছে।

এদের পাশাপাশি যারা প্রতিষ্ঠানটির মহাসচিব পদে আলোচনায় আছে তারা হলেন সিলেটের গওহরপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হকের নাম।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত আল্লামা আহমদ শফী ২০০৫ সালে বেফাকের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৭ সালে নির্বাচিত হন আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হন।

আহমদ শফীর নেতৃত্বে এতদিন তিন প্রতিষ্ঠান এক কেন্দ্রিক ভাবে পরিচালিত হলেও হাটহাজারী মাদ্রাসা, বেফাক-হাইয়া ও হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব আলাদাভাবে পরিচালিত হবে।

এক কেন্দ্রিকভাবে সব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ার কারণ হল আল্লামা শফীর মতো সর্বজনমান্য এমন কেউ নেই। তাই এসব পদে সবার গ্রহণযোগ্য এবং রাজনৈতিক কোনো অভিলাষ নেই এমন কাউকে নির্বাচিত করতে হবে। খবর-যুগান্তর

  • এসএইচ

 



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top