পবিত্র কোরআনে সালাতের ১২ অর্থ

রাজ টাইমস | প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২ ২০:২০; আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:৩২

ছবি: প্রতীকী

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা : সালাত বা নামাজ এমন ইবাদত, যা সব আসমানি ধর্মে পাওয়া যায়। যদিও তা আদায়ের পদ্ধতি পরস্পর থেকে ভিন্ন। ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ কোনো যুগকে শরিয়তমুক্ত রাখেননি এবং কোনো শরিয়তকে নামাজমুক্ত রাখেননি। ’ পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে নামাজের বর্ণনা এসেছে।

কোরআনে নামাজকে ‘সালাত’ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে সালাত শব্দটি শুধু নামাজ অর্থেই ব্যবহৃত হয়নি।
সালাতের সাধারণ অর্থ : আরবি সালাত শব্দের সাধারণ অর্থ দুটি। ক. আগুন বা সদৃশ উত্তপ্ত জিনিস। যেমন—বলা হয়, ‘সাল্লাইতুল উদা বিন-নারি’ (আমি আগুন দ্বারা উদ প্রজ্বালিত করেছি), খ. দোয়া বা প্রার্থনা। ধর্মতাত্ত্বিকরা বলেন, নামাজকে সালাত বলা হয় কেননা তাতে দোয়া ও প্রার্থনা আছে।

কোরআনে সালাত : পবিত্র কোরআনে সালাত শব্দটি ১০০ বার ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ বার বিশেষ্য পদ হিসেবে। যেমন—‘যারা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামাজ কায়েম করে। ’

আর ১৫ বার ক্রিয়াপদ হিসেবে। যেমন—‘সে দান করেনি এবং নামাজ আদায় করেনি। ’ (সুরা : কিয়ামা, আয়াত : ৩১)

কোরআনে যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে : পবিত্র কোরআনে ‘সালাত’ শব্দটি বহু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন—

১. ফরজ নামাজ : পবিত্র কোরআনে ‘সালাত’ শব্দটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফরজ নামাজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষত যখন তা জাকাতের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৩)

২. অনুগ্রহ : আল্লাহ বলেন, ‘তাদের প্রতি আছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দয়া ও অনুগ্রহ। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৭)

৩. অনুগ্রহ প্রার্থনা : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনার জন্য। ’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪৩)

৪. ক্ষমা প্রার্থনা : আল্লাহ বলেন, ‘আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। কেননা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা তাদের জন্য প্রশান্তি লাভের উপায়। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০৩)

৫. কোরআন তিলাওয়াত : আল্লাহ বলেন, ‘নামাজে তোমার তিলাওয়াতকে উচ্চৈঃস্বরে কোরো না এবং অতিশয় ক্ষীণ কোরো না; দুইয়ের মধ্যপথ অবলম্বন কোরো। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১০)

৬. ভয়ের নামাজ : যুদ্ধের ময়দানে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং সৈনিকদের জীবনে ঝুঁকি তৈরি হলে বিশেষ পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করতে হয়। শরিয়তের পরিভাষায় তাকে ‘সালাতুল খাউফ’ বা ভয়ের নামাজ বলা হয়। কোরআনে ‘সালাত’ শব্দ দ্বারা বিশেষ এই নামাজকেও বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে এবং তাদের সঙ্গে নামাজ আদায় করবে, তখন তাদের একদল তোমার সঙ্গে যেন দাঁড়ায় এবং তারা যেন সশস্ত্র থাকে। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১০)

৭. জানাজার নামাজ : সালাত দ্বারা জানাজার নামাজও উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ মুনাফিকদের ব্যাপারে বলেন, ‘তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাজার নামাজ পড়বে না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবে না; তারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করেছিল এবং পাপাচারী অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮৪)

৮. জুমার নামাজ : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও। ’ (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯)

৯. নামাজের জামাত : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যখন নামাজের (জামাতে সমবেত হওয়ার) জন্য আহ্বান করো, তখন তারা তাকে হাসি-তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে। ’

(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫৮)

১০. ইবাদতের স্থান : সালাত শব্দটি কোরআনে ইবাদতের স্থান অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যদি মানবজাতির এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তা হলে বিধ্বস্ত হয়ে যেত খ্রিস্টান সংসারবিরাগীদের উপাসনাস্থান, গির্জা, সালাওয়াত তথা ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদগুলো, যাতে অধিক স্মরণ করা হয় আল্লাহর নাম। ’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৪০)

১১. দরুদ : কোরআনে সালাত শব্দটি নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের অর্থেও এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। ’

(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

১২. দ্বিনদারি : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলল, হে শোয়াইব! তোমার নামাজ কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে অথবা আমাদের ধন-সম্পদ সম্পর্কে যা করি তাও? তুমি অবশ্যই সহিষ্ণু, ভালো মানুষ। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৮৭)

কোনো কোনো মুফাসসির বলেন, এই আয়াতে নামাজ দ্বারা ঈমান ও দ্বিনদারি উদ্দেশ্য।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top